Travel

প্রকৃতির শাণিত সৌন্দর্য কক্সবাজার ভ্রমণ

Coxbazar

ভোরবেলার শিশিরকণা, রাতের দক্ষিণা হিমবাহ জানিয়ে দেয় শীতের আগমন। ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময় শীতকাল। সাধারণ শীতকালে ভ্রমণ করাটাই সবাই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকে।বিশেষ করে প্রকৃতিই শীতকাল কে তৈরি করেছে ভ্রমণ উপযোগী করে। চাইলে, এই শীতে যান্ত্রিকতা দূরে ঠেলে দিয়ে ঘুরে আসতে পারেন পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে।

বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। ১২০ কিলোমিটার লম্বা দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের বালুকাময়ের উপর খালি পায়ে হেটে যেতে পারেন। উপভোগ করতে পারেন নীল সমুদ্রের ঢেউ। তীরে আচড়ে পড়া ঢেউয়ের শব্দ যেন জীবনের না পাওয়ার আর্তনাদ, হাহাকার! রোমাঞ্চকর জীবনের গল্প বা ব্যর্থতা কিংবা হতাশার গল্প হারিয়ে যায় উত্তাল জলরাশির শব্দে। এক পাশে পাহাড়, সারি সারি ঝাউবন, সামনে বিশাল নীল জলরাশির কখনো উত্তাল, কখনো স্থির সমুদ্র ৷ কিনারায় নরম বালুকণার স্তর।

কক্সবাজার ভ্রমণ।

ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় পুব আকাশে সূর্য উদয়ের সময় কোলাহল মুক্ত শান্ত সমুদ্র! ইন্দ্রজালিক সৌন্দর্য। এ যেন ঘুমিয়ে থাকা কোন নীল দানব। আকাশ হেলান দিয়ে আছে তার উপর! বা পশ্চিমা আকাশে সূর্য নামার সাথে সাথে কক্সবাজারের সম্মোহনী সৌন্দর্য নিয়ে চষে বেড়াতে পারেন নিস্তরঙ্গ জীবন স্রোতের গতি খোঁজতে। অখণ্ড এ সাগর সৈকত দেশী বিদেশি পর্যটকদের উত্তাল ঢেউ এবং মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্থের মায়াজালে আবদ্ধ করে রাখে। পূর্ণিমার রাতে আকাশের উজ্জ্বল চাঁদ সমুদ্রের নোনাজলে প্রতিফলিত হয়ে উঠে, মাঝরাতেও দিগন্ত বালুরেখা উজ্জ্বল হয়ে উঠে। সমুদ্রের ঢেউ যেন কানে এসে তানপুরা বা বীণার সুর উঠায়।

কক্সবাজার শহরের নিকটতম সৈকত কলাতলী ও লাবনী পয়েন্ট। এই সৈকতের পাশে কফির মগ হাতে চুমক দিতে দিতে দেখা যায় সমুদ্রের বুকে হারিয়ে যাচ্ছে সূর্য। রাতের গভীরতা বাড়ে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে সৈকত মার্কেটগুলোর বর্ণিল আলোর ছটা। ঝিনুক মার্কেটে ভেসে উঠে লাল নীল হলুদ সহ রঙিন আলোকরশ্মি। দেশীবিদেশী পর্যটকদের ভীড় জমে উঠে এই সৈকতের ঝিনুক মার্কেটে।

গোধূলি লগ্নে বা ভরদুপুরে কিংবা রাতের বেলায় সৈকতের মেরিন ড্রাইভে লং ড্রাইভে বের হতে পারেন। একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র। মেরিনড্রাইভ ধরে কক্সবাজার থেকে ১৮ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত অপরুপ সৌন্দর্যের হিমছড়ি। যার একপাশে সবুজ পাহাড় আর অন্যপাশে অপরুপ ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। পথ চলতে চলতে চোখ পড়ে বাম পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ ঘেরা পাহাড় আর ডানদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি থেকে ধেয়ে আসা অনবরত ঢেউ।

প্রকৃতির শাণিত এই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আপনার পাশে আছে amarroom.com আপনার ভ্রমণ আনন্দঘন করতে, সময় সাশ্রয় করতে, থাকার জন্য রুম বুকিং করতে নির্দিষ্ট বাজেট অনুযায়ী আপনার সাধ্যমতো সকল প্রকার রুম খোঁজে দিতে amarroom.com প্রস্তুত। আপনার কলের অপেক্ষায়।

কক্সবাজার আওতাভুক্ত মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপ। প্রাকৃতিক কারণে জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দেশের একমাত্র এই পাহাড়ি দ্বীপ। নৌপথে ১২ কিলোমিটার দূরে মহেশখালীতে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা। এখানে আছে জলাভূমি আর প্যারাবন। শীতের মৌসুমে এখানে প্রচুর অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। মহেশখালীতে পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে আদিনাথ মন্দির। নয়নাভিরাম নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের স্থান। তার পাশেই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন আর একটি দ্বীপ সোনাদিয়া। অপরূপ সৌন্দর্যের আধার এই সোনাদিয়ায় রয়েছে অনন্য সুন্দর এক নিরিবিলি সমুদ্র সৈকত। সাগর পরিবেস্টিত এই দ্বীপে রয়েছে কেয়া-নিশিন্দার ঝোপ, ছোট বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন, চোখে পড়বে বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি।  সৈকত জুড়ে দেখা মিলবে অজস্র লাল কাঁকড়া।

বঙ্গোপসাগরের বুকে অসীম সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। বাংলাদেশের মূলভূখন্ডের সর্বদক্ষিণের এই দ্বীপ বা স্থান নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত এ দ্বীপটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্থান। যেখানে অসীম নীল আকাশ মিশে আছে সমুদ্রের নীল জলে। সারি সারি নারিকেল গাছ দৃশ্যমান। দ্বীপের চারিদিকে চোখে পরে অসংখ্য প্রবাল, শামুক, ঝিনুক। এখানের নির্জন সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের মুগ্ধ করে।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ সৌন্দর্য্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ও তার আশেপাশের মন মাতানো প্রাকৃতিক পরিবেশ।

২৪৯১.৮৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজার জেলায় রয়েছে মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফনদী। সাগর ও নদীর অপূর্ণ মেলবন্ধনের সাক্ষাৎ কক্সবাজার। উপভোগ করা যায় মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ। কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানে ঘোরার পাশাপাশি সৈকতে রয়েছে ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থা, স্পিডবোট, ওয়াটার বাইক, মোটরবাইক, সার্ফিংসহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা।

সমুদ্রে নামার আগে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন। লাইফ গার্ডের বেশ কয়েকটি সাইনবোর্ড ও পতাকা রয়েছে বিচের বিভিন্ন স্থানে। এসব সাইন দেখে নিশ্চিত হোন সমুদ্রে নামা কখন নিরাপদ। জোয়ারের সময় সমুদ্রের গোসলে নামা নিরাপদ তাই সবুজ পতাকা উড়ানো হয়।

ভাটার সময়ে সমুদ্রে যাওয়া অনিরাপদ বা বিপজ্জনক। ভাটায় নিমিষেই উত্তাল সমুদ্রের স্রোতে গভীর সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকায়  লাল পতাকা ওড়ানো হয়। এ সময় সমুদ্রে নামা বিরত থাকুন। স্পিডবোট ভাড়া করে সমুদ্রে নামার সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পড়ে নিন। ঢাকা থেকে কক্সবাজার সড়ক, রেল এবং আকাশপথে যাওয়া যায়। রেলপথে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে তারপর বাসে করে কক্সবাজার। দেশের বিভিন্ন জেলা, থানা শহর থেকে কক্সবাজার যাওয়ার বাস রয়েছে৷ ব্যক্তিগত গাড়িতে করেও যেতে পারেন।

কক্সবাজারে পর্যাপ্ত হোটেল রয়েছে থাকার জন্য। সাধারণত দামানুসারে কক্সবাজার হোটেল/মোটেল/রিসোর্ট গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সায়মন বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে, হেরিটেজ সী প্যালেস, সীগাল ইত্যাদি। এসব হোটেল, রিসোর্টে সাধারণত অগ্রিম বুকিং করতে হয়৷ নতুবা বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয়।

ইএমআই সিস্টেম বা মাসিক কিস্তি পরিকল্পনা সেবা নিয়ে আপনাদের জন্য প্রস্তুত amarroom.com ৫০০০ টাকার উপরে হোটেল বিল হলেই ইএমআই সিস্টেম আপনার জন্য। আপনার ভ্রমণ আরো অধিকতর সহজ করতে। কক্সবাজার ভ্রমণের পর আবাসন নিয়ে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকলে অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আপনার আবাসন নিশ্চিত করতে, ভ্রমণ আনন্দদায়ক করতে আপনার জন্য রয়েছে amarroom.com হাতে সময় কম, জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তাড়াহুড়ো করেই ভ্রমণের উদ্দেশ্য বের হলেন। হোটেল বুকিং নিয়ে আপনার সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।

ভ্রমণের পূর্বে হোটেল নিশ্চিত করতে ওয়েবসাইটে ক্লিক করে বা যোগাযোগ করে কনফার্ম করে নিতে পারেন আবাসন। ঝামেলা বিহীন, সময় সাশ্রয়, আনন্দঘন ভ্রমণ।
ভ্রমণের  বেস্ট ডিল টা শুধুই আপনার জন্য amarroom.com এ।

amarroom