Travel

পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, সবুজের সমারোহ, নীল মেঘের রাজ্য বান্দরবান

Bandarbon

ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ স্থান পার্বত্য জেলা বান্দরবান। বাংলাদেশেই বান্দরবান কে ঘিরে আছে কক্সবাজার,চট্টগ্রাম, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ির নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। অন্যপাশে মায়ানমারের চিন প্রদেশ এবং আরাকান প্রদেশের সীমান্ত। দুটি দেশের অপরুপ সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু ছেদ করেছে বান্দরবানে। এই পাহাড়িকন্যা প্রকৃতির সবটুকু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে পাহাড়ের উপর মেঘ এসে মিশে আছে। মেঘ হেলান দিয়ে পাহাড়ের সাথে মিতালী বানিয়ে নিয়েছে।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত এই পাহাড়িকন্যা, চট্টগ্রাম থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে ৪৪৭৯বর্গ কিলোমিটার মহা প্রাকৃতিক সমারোহে দাঁড়িয়ে আছে। যেখানকার প্রতিটি স্থানই উপভোগ্য ও দর্শনীয়। নৈসর্গিক বৈচিত্র্যের জন্য বাংলাদেশের একমাত্র ভ্রমণ স্থান বান্দরবান যেখানে মাসের পর মাস ঘুরেও দেখে শেষ করা যায় না। আপনি চাইলে শুধুমাত্র উপভোগ করার জন্য বা ট্র্যাকিং টার্গেট নিয়ে বেড়াতে পারেন বান্দরবানে।

ঘন সবুজের, প্রাকৃতিক ছন্দের,অবারিত সবুজ ছাউনির মধ্যে, পাহাড়ের সীমানায় মেঘ ছুঁয়ে দেখার জন্য আপনার ভ্রমণের পরে, সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আপনার পাশে আছে amarroom.com

আপনার ভ্রমণ আনন্দঘন করতে, সময় সাশ্রয় করতে, থাকার জন্য রুম বুকিং করতে  নির্দিষ্ট বাজেট অনুযায়ী আপনার সাধ্যমতো সকল প্রকার রুম খোঁজে দিতে amarroom.com 

বান্দরবান জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৭ কিলো মিটার দক্ষিণ পূর্ব পাশে বান্দরবান-থানছি সড়ক এর পাহাড় চূড়ায় নীলগিরি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২০০ফুট উপরে যেখানে পাহাড় আর মেঘের মিতালি চলে দিনরাত। মেঘের দেশ ও বলা হয়।মেঘের আনাগোনা হয়, মেঘ ভেসে বেড়ায়। প্রাকৃতিক নিশ্বাস সাথে মানুষের নিশ্বাসের মেলবন্ধনের সীমানায় ছেদ হয়ে উঠে নীলগিরি তে। প্রকৃতির কারুকাজ এতটাই বৈচিত্র্যের যে মেঘ, বৃষ্টি, রোদ, হাসি মাখা আকাশের রংধনু ভেসে উঠে। দেখা যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত উপজাতী সম্প্রদায় ম্রো পল্লী। তাদের বৈচিত্র্য সংষ্কৃতি,সংগ্রামী জীবনের দেখা পাওয়া যায়। জীবনের স্বাদ ও অর্থ খোঁজে পাওয়া যায়। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরি থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়।

পর্যটক দের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য রয়েছে সেনাক্যাম্প। সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ টিম নাগরিক দের নিরাপত্তার ব্যাপারে খুব খেয়াল রাখেন।বান্দরবান জেলা সদর থেকে নীলগিরি যাওয়ার পথে সেনা চেকপোস্টে পর্যটকদের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। বান্দরবান জেলা সদর থেকে সাধারণত বিকেল ৫ টার পর নীলগিরির উদ্দেশে কোন গাড়ি যেতে দেয়া হয় না নিরাপত্তার স্বার্থে।

বান্দরবান শহর থেকে ৪ কিমি উত্তরে বালাঘাট নামক স্থানে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটা অপূর্ণ ধর্মীয় স্থান স্বর্ণমন্দির। ধর্মীয় হলেও তা দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে। স্বর্ণমন্দিরের নির্মাণশৈলী,কারুকাজ মিয়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ টেম্পলগুলোর আদলে।  ‘মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বৌদ্ধধাতু চেতী’ নামে হলেও  স্বর্ণ মন্দির নামেই এটা পরিচিত বেশি।

সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি সুদৃশ্য এই স্বর্ণ মন্দিরটির বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান হলেও দেশ বিদেশ থেকে অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এখানে প্রার্থনা করতে আসেন। কেউ ঘুরতে আসেন। এই বৌদ্ধ মন্দির বা প্যাগোডাটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেরা প্যাগোডাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই পাহাড়ের উপর একটা পুকুর আছে যা অত্যন্ত মনোরম পরিবেশ আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্যের নিদর্শনের পাদদেশে।

মেঘলা শোনা গেলেও এখানে অবশ্য মেঘ নাই। মেঘলা একটা পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটক দের জন্য আকর্ষণীয় একটা জায়গা।বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরত্বে মেঘলা পর্যটক কেন্দ্র। সুন্দর কিছু উঁচুনিচু পাহাড় ঘিরে এই লেক। চারপাশে ঘন সবুজের সমারোহ, পাশে লেকের স্বচ্ছ পানি। পানিতে দেখা মেলে হাঁসের প্যাডেল বোট, উপরে মিনি চিড়িয়াখানা। আকাশে ভেসে বেড়ায় রোপওয়ে কার। উপর নিচে দৃশ্যমান অপরুপ প্রাকৃতিক পরিবেশ।

পাহাড়, নদী, ঝর্ণার অপরুপ সৌন্দর্যের বান্দরবানে আপনার পাশে থাকার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য রয়েছে  amarroom.com   । যার মাধ্যমে আপনি নির্বিঘ্নে আপনার আনন্দঘন ভ্রমণ শেষ করতে পারেন।

বান্দারবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এক লেক। বগালেক,কিওক্রাডাং এর পাশে। কেওকারাডাং এর কোল ঘেঁষে। পাহাড়ের উপরে ১৫ একর জায়গা জুড়ে নীল রঙের পানি নিয়ে অপার্থিব সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়ানো বগালেক। সম্পূর্ণ আবদ্ধ এই লেকের গভীরতা এক এক সময় এক এক জায়গায় এক রকম হয়। আনুমানিক ২০০ ফুট গড় গভীর এই লেকের আশেপাশে পানির কোন উৎসও নেই। তবে বগালেক থেকে ১৫৩ মিটার নিচে একটি ছোট ঝর্ণার উৎস আছে যা বগাছড়া (জ্বালা-মুখ) নামে পরিচিত। বছরে ২/৩ মাস লেকের নীল পানি হটাত করে ঘোলাটে হয়ে যায়।  লেকের পাশে বাস করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র উপজাতীয় বম ও খুমী সম্প্রদায়।

বান্দরবানে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত চিম্বুক। বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে এই পাহাড়ের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫০০শত ফুট। এখানে যাওয়ার পথে দেখা মিলে দুই পাশের পাহাড়ী দৃশ্য। নিরবে অবারিত সৌন্দর্যের সাঙ্গু নদী প্রবাহপথ চোখে পড়ে। ২৫০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে এ অপরূপ বিচিত্র প্রাকৃতিক দৃশ্য চিম্বুকের বুকে। যেখানে দাঁড়িয়ে দেখা মিলে মেঘের ভেলা। মেঘের স্বর্গরাজ্য চিম্বুক। থানছি সড়কের দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় চিম্বুক অবস্থিত।

বান্দরবান রুমা রাস্তার ৮ কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাতের অবস্থান। যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি। ঝর্ণার হিমশীতল পানি সারাক্ষণ এখানে বয়ে যাচ্ছে। যা খুবই স্বচ্ছ। সবুজ প্রকৃতির বুক ছিঁড়ে সর্পিল গতিতে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদীর মোহনা এই পাশেও মিলে। পাশে আকর্ষণীয় পাহাড়ি ঝর্ণা।

এছাড়া বাংলাদেশের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং এবং বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং এই বান্দরবান জেলাতেই অবস্থিত।

বান্দরবান শহর হতে ৩ কিমি দক্ষিণ পূর্বে শৈলপ্রপাত বা চিম্বুক যাওয়ার পথে পড়ে মিলনছড়ি। পাহাড়ের অতি উচ্চতায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পূর্ব প্রান্তে অবারিত সবুজের খেলা। পূর্বের অতিউচ্চ পর্বত শীর্ষ থেকে সাঙ্গু নদী নেমে এসে বান্দরবান শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশে গেছে সাঙ্গু নদী। বান্দরবান শহরের পূর্বে পাশে পাহাড়ি ঢালে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী দেখতে দারুণ দৃষ্টিনন্দন।

আসলে বান্দরবান এত অল্প কথায় বিশ্লেষণ করা যায় না। অল্প কয়েক দিনে খোঁজে পাওয়া না এই প্রকৃতির সৌন্দর্য। এ যেন অনন্ত, অসীমের সৌন্দর্য্যময় পথচলা, রোমাঞ্চকর এক পরিবেশ।

বান্দরবান ভ্রমণে
১. নীলগিরি
২. স্বর্ণমন্দির
৩. মেঘলা
৪. শৈলপ্রপাত
৫. নীলাচল
৬. মিলনছড়ি
৭. চিম্বুক
৮. সাঙ্গু নদী
৯. তাজিনডং
১০. কেওক্রাডং
১১. জাদিপাই ঝরনা
১২. বগালেক
১৩. মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স
১৪. প্রান্তিক লেক
১৫. ঋজুক জলপ্রপাত
১৬. নাফাখুম জলপ্রপাতএর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ঘুরে আসতে পারেন। আপনাদের পাশে, আপনাদের জন্য ইএমআই সিস্টেম বা মাসিক কিস্তি পরিকল্পনা সেবা নিয়ে প্রস্তুত amarroom.com 
 ৫০০০ টাকার উপরে হোটেল বিল হলেই ইএমআই সিস্টেম আপনার জন্য। আপনার ভ্রমণ আরো অধিকতর সহজ করতে।

পাহাড়ী অঞ্চল নয়ানভিরাম বান্দরবান ভ্রমণের জন্য আপনার আবাসন নিশ্চিত করতে, ভ্রমণ আনন্দদায়ক কর‍তে আপনার জন্য রয়েছে  amarroom.com। হাতে সময় কম, জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তাড়াহুড়ো করেই ভ্রমণের উদ্দেশ্য বের হলেন। হোটেল বুকিং নিয়ে আপনার সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।

ভ্রমণের পূর্বে হোটেল নিশ্চিত করতে ওয়েবসাইটে ক্লিক করে বা যোগাযোগ করে কনফার্ম করে নিতে পারেন আবাসন। ঝামেলা বিহীন, সময় সাশ্রয়, আনন্দঘন ভ্রমণ।
ভ্রমণের  বেস্ট ডিল টা শুধুই আপনার জন্য amarroom.com এ।
হট লাইনঃ
018 30 888 333
096 6677 0099

amarroom