Travel

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী !

6051914081_8469c89ea7_b

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা । বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এই জেলাটি শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে সমধিক পরিচিত । এখানে রয়েছে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সুদীর্ঘ ইতিহাস । মুঘল আমলে  মসলিন কাপড় তৈরির জন্য বিখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক সময় বাংলাদেশের সমতট জনপদের অন্যতম একটি অংশ ছিল । ব্রিটিশ শাসনামলে এটি টিপারা বা ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত ছিল । এর পর ছয়টি থানা নিয়ে গঠিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা । এই মহকুমা থেকে গঠিত হয় পৌর শহর এবং পর্যায়ক্রমে সেটা ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে মর্যাদা পায় ।

নামকরণঃ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নামকরণ নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত রয়েছে ।  এক দলের মতে, সেন বংশের রাজত্বকালে এই অঞ্চলে অভিজাত ব্রাহ্মণদের খুবই অভাব ছিল । ফলে পূজা অর্চনায় এ অঞ্চলে বিঘ্নতার সৃষ্টি হত । এ সমস্যা নিরসনের জন্য সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষণ সেন আদিসুর কন্যকুঞ্জ থেকে বেশ কয়েকটি ব্রাহ্মণ পরিবারকে এ অঞ্চলে নিয়ে আসেন । সেই ব্রাহ্মণদের বাড়ির অবস্থানের কারণে এ জেলার নামকরণ করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া । অন্য মতানুসারে, দিল্লী থেকে আগত ইসলাম ধর্ম প্রচারক শাহ সুফী হযরত কাজী মাহমুদ শাহ এ শহর থেকে  ব্রাহ্মণ পরিবার গুলোকে বেরিয়ে যাবার নির্দেশ প্রদান করেন, এর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে ।

ঐতিহ্যবাহী উৎসব

উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে অসীম অবদান রাখা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, আলী আকবর খান , বাহাদুর খান এর মত খ্যাতিমান সঙ্গীতজ্ঞের জন্ম এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রয়েছে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী উৎসব ।

পুতুল নাচঃ

পুতুল নাচের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খ্যাতি দেশজোড়া । ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম পুতুল নাচের প্রচলন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের বিপিন পাল । 

নৌকা বাইচঃ

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে শত বছর যাবত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে । প্রতিবছর মনসা পূজা উপলক্ষে ভাদ্র মাসের প্রথম তারিখে তিতাস নদীর বুকে ঐতিহ্যবাহী এ  নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয় ।

মোরগ লড়াইঃ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এই ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াই অনুষ্ঠিত হয় । দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সেরা সেরা মোরগ নিয়ে মোরগের মালিকরা আসেন এই প্রতিযোগিতায় । প্রতিযোগিতা দেখার জন্য বিভিন্ন বয়সের মানুষরা আসেন এখানে ।  

গরুর দৌড়ঃ

ঘোড়ার দৌড় বিশ্বজোড়া খুবই পরিচিত একটি খেলা । কিন্তু গরুর দৌড় একেবারেই ভিন্ন একটি খেলা । ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার রূপসদী গ্রামে এই ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় । 

দর্শনীয় স্থানসমূহঃ 

ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রয়েছে অসংখ্য চোখ ধাঁধানো দর্শনীয় স্থান । পর্যটকদের মনে সাড়া জাগায় এসব দর্শনীয় স্থানগুলো ।  

হাতিরপুলঃ 

ঢাকা টু সিলেট হাইওয়ে রোড সংলগ্ন সরাইল থানার বারিউরা নামক বাজারের পাশে ইট নির্মিত একটি দর্শনীয় উঁচু পুল রয়েছে । পুলটির হাতির পুল নামে পরিচিত । সরাইলে দেওয়ানী লাভের পর দেওয়ান শাহবাজ আলী বর্তমান শাহবাজপুরে তাঁর কাচারী প্রতিষ্ঠা করেন । শাহবাজ আলী সরাইলের বাড়ী এবং শাহবাজপুর যাতায়াতের জন্য ১৬৫০ খ্রিঃ দিকে সরাইল থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন । বর্তমানে পরিত্যক্ত এই রাস্তাটিকে স্থানীয়রা জাঙ্গাল বলে থাকে । দেওয়ান শাহবাজ আলী এবং হরষপুরের জমিদার দেওয়ান নুরমোহাম্মদের সঙ্গে আত্মীয়তার সর্ম্পক ছিল বলে প্রমাণ পাওয় যায় । ফলে উভয় পরিবারের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উক্ত জাঙ্গালটি ব্যবহৃত হতো বলে মনে করা হয় । এই জাঙ্গালটির উপরেই পুলটি অবস্থিত । শুধু মাত্র হাতির পিটে চড়ে দেওয়ানদের চলাচল আবার কথিত আছে পুলটির গোড়ায় হাতি নিয়ে বিশ্রাম দেওয়া হতো বলে পুলটিকে হাতির পুল নামে ডাকা হতো । পুলটির গায়ে  অপূর্ব সুন্দর কারুকার্য  দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল । 

বাংলাদেশে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে পুলটিকে আকর্ষনীয় করার জন্য সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে । সংস্কারের সময কিছু কারুকার্য নতুন করে তৈরী করা হয়েছে । যেগুলো খুবই দৃষ্টিনন্দন ও চমৎকার । 

গঙ্গাসাগর দীঘিঃ

গঙ্গাসাগর দীঘি এক কালে আগরতলার নদী বন্দরের মতো ব্যবহার হতো । এর পূর্বনাম ছিল রাজদরগঞ্জ বাজার । ত্রিপুরা রাজ্যের ভাটি অঞ্চলের খাজনা আদায়ের মহল অফিস ছিল এ রাজদরগঞ্জ বাজারে । রাজদরগঞ্জ বাজারের পরবর্তী নাম হয় মোগড়া বাজার । এখানে ‘সেনাপতি বাড়ি’ নামে একটি জায়গা আছে । তাই মনে করা হয়ে থাকে যে, ত্রিপুরা-রাজ্যের কোন এক সেনাপতি এখানে বসবাস করতেন স্থায়ী অথবা অস্থায়ীভাবে। ত্রিপুরা-রাজ্য এখানে একটি বিরাট দীঘি খনন করান। গঙ্গা দেবীর নামানুষারে দীঘির নামকরণ করেন ‘গঙ্গাসাগর দীঘি’। সেই থেকেই জায়গাটির নাম গঙ্গাসাগর হয়।

কেল্লা শহীদ মাজারঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ার খড়মপুরে অবস্থিত হজরত সৈয়দ আহম্মদ (রঃ) এর দরগাহ । এই দরগাহটি কেল্লা শহীদের দরগাহ নামে দেশব্যাপি পরিচিত । কেল্লা শহীদের দরগাহ সর্ম্পকে সুন্দর একটি কাহিনী প্রচলিত রয়েছে । খড়মপুরের কিছু হিন্দু জেলেরা তিতাস নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তাদের জালে একটি খন্ডিত মস্তক আটকা পড়ে যায় । ভয়ার্ত জেলেরা খন্ডিত মস্তকটি উঠাতে গেলে এটি বলতে থাকে ‘‘একজন আস্তিকের সাথে আর একজন নাস্তিকের কখনো মিল হতে পারে না। তোমরা যে পর্যন্ত কলেমা পাঠ করে মুসলমান না হবে ততক্ষণ আমার মস্তক স্পর্শ করবে না।’’ খন্ডিত মস্তকের কাছ থেকে এ কথা শুনে  কলেমা পাঠ করে ঐ জেলেরা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে যায় । মস্তকের নির্দেশ মোতাবেক ইসলামী মতে খড়ম পুর কবরস্থানে মস্তক দাফন করে । এ থেকেই শাহ পীর সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ওরফে কেল্লা শহীদের পবিত্র মাজার শরীফ নামে এটি পরিচিতি লাভ করে । প্রতি বছর ওরসে এই মাজারে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে ।

আবি ফিউচার পার্কঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ প্রান্তে ভাদুঘরে কুরুলিয়া খালের তীরে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একমাত্র  বিনোদন কেন্দ্র আবি ফিউচার পার্ক ।  প্রায় ৪৮০ শতক জায়গার উপর নির্মিত এই পার্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হচ্ছে খালের তীরে হাঙর মাছের মাথার আকৃতির নৌকা ঘাট । এখানে রয়েছে নাগরদোলা, টয় ট্রেইন ও নৌকাসহ মোট ৬টি রাইড । পার্কটি সহজেই দর্শনার্থীদের মন জয় করে । খালপারের এই অনন্য সুন্দর পার্কটি দর্শনার্থীর প্রাণে লাগায় প্রশান্তির ছোঁয়া । 

ধরন্তি হাওরঃ

পশ্চিমে মেঘনা আর পূর্বে তিতাসকে কেন্দ্র করে মাঝখানে গড়ে ওঠেছে সুবিশাল হাওর । সূর্যের আলোয় শেষ বিকেলের চিকচিক করা জলরাশি মনে দেয় অন্যরকম দোলা ।  হাওরের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে সরাইল-নাসিরনগর সড়ক । ধরন্তি গ্রামে এই সড়কটিতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখলে মনে হবে সূর্য যেন লুকাচ্ছে পানির গভীরে । এ যেন কক্সবাজার কিংবা পটুয়াখালীর সমুদ্র সৈকত । বর্ষাকালে  হাওর থাকে পানিতে টইটম্বুর । তখনই দেখা যায় এ হাওরের অদ্ভুত সৌন্দর্য ।  

এই হাওরে সমুদ্রের মতো বেলাভূমি না থাকলেও সৌন্দর্যের দিক থেকে এটি কোন অংশেই কক্সবাজার থেকে কম নয় । হাওরের দিগন্ত জোড়া থৈ থৈ পানি আর মেঘের লুকোচুরি খেলায় বর্ষার বিকেলটা হয়ে ওঠে মোহময় । হাওরে ছোট ডিঙ্গি নৌকা ও স্পিড বোট নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যাবে । সাথে কারো যদি মাছ ধরার নেশা থাকে তবে তো কথাই নেই । এখানেই লেগে যেতে পারেন প্রকৃতি দর্শনের পাশাপাশি মৎস শিকারে ।   

ঢাকা থেকে মাত্র ঘন্টা তিনেকের দূরত্বে অবস্থিত এ হাওরে খুব সহজেই আসা যাবে । ঢাকা থেকে বাসে চেপে প্রথমে আসতে হবে সরাইল বিশ্বরোডে । বিশ্বরোড থেকে সিএনজিতে করে পৌঁছে যেতে পারবেন ধরন্তি হাওরে । ট্রেনে করেও আসতে পারেন এখানে । সেজন্যে ঢাকা থেকে ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অথবা আশুগঞ্জ স্টেশন নেমে বাস অথবা সিএনজি করে চলে যাওয়া যাবে ধরন্তি৷।  

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধিসৌধঃ  

যাদের কারণে বাংলাদেশ পেয়েছে লাল সবুজের পতাকা তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল । বাংলার সূর্য সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি সৌধ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় । ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে পরম যত্নে শায়িত মোস্তফা কামালের কবরের পাশে তৈরি করা হয়েছে স্মৃতি ফলক ও সৌধ । 

বাংলার এই বীরের সমাধি সৌধ দেখতে প্রতিদিন ভীড় জমান শত শত দর্শনার্থী ।  

হরিপুর জমিদার বাড়িঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামে তিতাস নদীর পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত হরিপুর জমিদার বাড়ি । উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এ বাড়িটি কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে ।  অনেক বড় বড় বারান্দা ডিঙিয়ে মূল বাড়িটির অবস্থান । নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বাড়িটির বাইরের অবয়বটি এখনও অবিকল রয়ে গেছে । কারুকাজ খচিত দেয়াল, স্তম্ভ ও কার্নিশ দেখে মন জোড়ায় সবার । তবে বাড়িটির দেয়ালের অধিকাংশ পলেস্তারা খসে পড়ছে দিন দিন আর সেখানে জমেছে শেওলা । দৃষ্টিনন্দন কারুকাজের অধিকাংশই বিলীন হয়ে যাচ্ছে ।  প্রায় ৪৮০ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত তিনতলা জমিদার বাড়িটিতে রয়ছে প্রায় ৬০টি কক্ষ, রং মহল, দরবার হল, ধানের গোলা, গোয়ালঘর, রান্নার ঘর, নাচ ঘর, পুকুর, খেলার মাঠ, মন্দির ও সীমানা প্রাচীর । 

জানা যায়, প্রায় ১৭৫ বছর আগে জমিদার গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরী ও কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী বাড়িটি নির্মাণ করেন। 

বিশাল আয়তনের বাড়িটির পুরো ভবনের কোথাও কোনো রডের গাঁথুনি নেই । লাল ইট সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি ভবনের দুপাশে দুটি সুউচ্চ গম্বুজ সগর্বে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে । দোতলায় উঠার জন্য ছয় দিকে ছয়টি সিঁড়ি ও তিনতলায় উঠার জন্য দুই দিকে দুটি সিঁড়ি রয়েছে । বাড়ির পশ্চিম দিকে তিতাস নদীর পাড়ে শান বাঁধানো ঘাটের উত্তর দিকে কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী ও দক্ষিণ দিকে গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরীর সমাধি মঠ রয়েছে ।

উলচাপাড়া জামে মসজিদ 

প্রাচীন স্থাপত্যের অসাধারণ এক উদাহরণ উলচাপাড়া জামে মসজিদ । মসজিদটিতে যেসব শিলালিপি পাওয়া গেছে তা থেকে অনুমান করা হয় এটি ১৭২৭-২৮ খ্রীস্টাব্দে নির্মান করা হয়েছে । মসজিদটির আয়তন ৫২*৫৩ ফুট । এর ভিতরে রয়ছে ৪ ফুট পুরু দরজা । গম্বুজের কেন্দ্র থেকে নিচ পর্যন্ত অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন  কারুকাজ দিয়ে তৈরি করা হয় । ফরাসী ভাষার একটি শিলালিপি মসজিদের ভিতরে পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু এর অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ।

ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা থেকে সি এনজি যোগে যাওয়া যাবে সদর থানার অধীনে উলচাপাড়া গ্রামে অবস্থিত এ মসজিদটিতে ।

আরাফাইল মসজিদ 

প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষিত মোঘল আমলের ঐতিহাসিক নির্দশন আরাফাইল মসজিদটি সরাইল উপজেলার সদর থেকে প্রায় ১ কি.মি. পশ্চিমে আরিফাইল গ্রামে অবস্থিত । ৭০ফুটx২০ফুট আয়তনের এই মসজিদটি ১৬৬২ খ্রি. নির্মিত । স্থাপত্য কলা কৌশল ও অপূর্ব নির্মাণ শৈলীর কারণে মসজিদটিকে দেখতে অনেকটা তাজমহরে মতো মনে হয় । ৩৫০ বছর পূর্বে নির্মিত মসজিদটির দেয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি । 

মসজিদটির পাশেই রয়েছে বিশাল আয়তনের একটি দীঘি, যার নাম সাগর দীঘি । মসজিদের দক্ষিণে রয়েছে দুটি কবর, যা ‘জোড়া কবর’ নামে পরিচিত । ঈশা খাঁ নির্মিত মসজিদটির জোড়া কবর দুটি ঈশা খাঁর দুই স্ত্রীর সমাধিসৌধ বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন ।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিশ্বরোড মোড় এসে সিএনজি যোগে সরাসরি যাওয়া যাবে আরাফাইল মসজিদে । 

কি খাবেনঃ

এ জেলা মিষ্টান্নের জন্য বেশ বিখ্যাত । এখানকার ছানামুখী মিষ্টির খ্যাতি দেশজোড়া ।   এছাড়া তালের রস দিয়ে তৈরি তালের বড়া ও তালের রসমালাই দেশের অন্য কোন জায়গায় পাওয়া যায়না । 

কিভাবে যাবেনঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে বেশ কিছু পরিবহনের বাস রয়েছে । এছাড়া চট্টগ্রাম বা সিলেটগামী যেকোন বাস দিয়েও যাওয়া যাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া । ট্রেনেও সরাসরি যাওয়া যাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া । সিলেটগামী সকল ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে থামে । 

কোথায় থাকবেনঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু ভাল মানের হোটেল রয়েছে । www.amarroom.com এর মাধ্যমে সহজেই আপনার পছন্দের যেকোন হোটেল বুকিং করতে পারবেন ।  

amarroom