Travel

ছাতক উপজেলা, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি ।

lal paharb

ছাতক উপজেলাঃ 

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ছাতক উপজেলা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি । এই উপজেলায় রয়েছে অসংখ্য অতীব সুন্দর দর্শনীয় স্থান । সুনামগঞ্জ জেলার অধীন এই উপজেলার আয়তন ৪৪০ বর্গকিলোমিটার । সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় রয়েছে নান্দনিক সব প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান । ছাতকের উত্তরে রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, পশ্চিমে দোয়ারাবাজার ইউনিয়ন ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে জগন্নাথপুর উপজেলা এবং পূর্বে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও সিলেট সদর উপজেলা ।
১৩ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই ছোট্ট উপজেলায় যে কতটা সৌন্দর্য লালন করে তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবেনা । 

এ উপজেলাটি সিলেট বিভাগের একমাত্র শিল্পাঞ্চল । 

এখানে নল-খাগড়া ও বাঁশের সহজলভ্যতার কারণে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথমদিককার কাগজের মণ্ড তৈরির কারখানা । বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপ ছাতকের বাজনা মহলে তৈরি করেছে আকিজ ফ্যাক্টরি যেখানে বিভিন্ন প্লাস্টিকের বোতল উৎপাদন করা হয় । 

এছাড়া চুনের ভাটায় চুনা পাথর পুড়িয়ে চুন তৈরির প্রাচীন এই শিল্পটি অনেক আগে থেকেই চালু আছে এ অঞ্চলে । 

ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিঃ

১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি । প্রতিষ্ঠালগ্নে যার নাম ছিল  আসাম-বেঙ্গল সিমেন্ট ফ্যাক্টরি । ফ্যাক্টরিটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২ লক্ষ ৩৩ হাজার মে.টন । এর কাঁচামাল চুনাপাথর ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানি করা হয় । এছাড়াও
টেকেরঘাট এর নিজস্ব পাথর উত্তোলন কেন্দ্র থেকেও চুনাপাথর সংগ্রহ করা হয় । 

ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সুরমার ঠিক তীরে অবস্থিত । ফ্যাক্টরিটিতে আগেকার যুগের সকল যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো এখনও বিদ্যমান । এ ফ্যাক্টরির অবকাঠামো দেখলে আশ্চর্য্যই হতে হয় । ব্রিটিশ শাসনকাল পেরিয়ে এই যুগে এসেও ঠায় দাড়িয়ে আছে সগৌরবে । নদী তীরের এই ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে ঢুকলে যে কেউ মুগ্ধ হয়ে যাবে । এর চারপাশের সবুজ আর বিস্তৃত টিলা গুলো তৈরি  করে রেখেছে অপার্থিব সৌন্দর্য্য । ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে রয়েছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সুবিশাল বাংলো । বাংলো গুলোর সামনে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের তৈরিকৃত বাগান । নিয়মিত পরিচর্যার ফলে বাগানগুলোকে মনে হয়ে যৌবনা রূপবতী । বাংলোর পাশেই রয়েছে তৎকালীন নির্মিত আধুনিক হাসপাতাল । বর্তমানে এখানকার সুযোগ সুবিধা কমে এলেও তখনকার সময়ে এখানে সার্জারি পর্যন্ত হতো ।  হসপিটাল পেরিয়ে গেলে সামনে পড়বে বিশাল মাঠ যেখানে রয়েছে সবুজ গালিচার মতো ঘাস ও বিস্তৃত গাছের সারি ।  এর সামনেই রয়েছে মূল ফ্যাক্টরি । যেখানে তৈরি হয় দেশের কাচামালের তৈরি সিমেন্ট । 

এই ফ্যাক্টরির পুরো অবকাঠামোর সাথে সবুজ প্রকৃতি যেন মিলে মিশে একাকার হয়ে পর্যটকদের ডাকছে । এখানে ঘুরতে আসলে কেউই নিরাশ হবেন না ।  

লাফার্জসুরমা সিমেন্ট ফ্যাক্টরিঃ 

ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এর পাশ ঘেষেই গড়ে ওঠেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন লাফার্জ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি । ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ ফ্যাক্টরিটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক সিমেন্ট উৎপাদন কারখানা । এ ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম সবুজ পরিবেশ । এর অভ্যন্তরে হাটলে মনে হবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস । অত্যাধুনিক সব অবকাঠামোর সাথে নির্মল সতেজ পরিবেশ সৃষ্টি করে অন্যরকম এক অনুভূতি । ছাতক উপজেলা থেকে খেয়াতে সুরমা পাড়ি দিয়ে তারপর আসতে হয় এখানে ।  অল্প সময়ের এই নৌকা ভ্রমণ চমৎকৃত করে রাখবে অনেক দিনের জন্য । বাংলাদেশের সবথেকে দীর্ঘ এই নদীর জলরাশি প্রাণে দিবে অপূর্ব এক প্রশান্তি । 

দুরবিন শাহ মাজারঃ

দুর্বিন শাহ বাংলাদেশের জনপ্রিয় একজন মরমী গীতিকবি । বাংলা লোক সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার এই বাউলসাধক ১৯২০ সালের ২ নভেম্বর ছাতকের সুরমা নদীর উত্তর পারে নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় জন্মগ্রহণ করেন । এই তারামনি টিলা বর্তমানে  দুরবীন টিলা নামে পরিচিত । তার পিতা সফাত আলি শাহ ছিলেন একজন সুফি সাধক এবং মা হাসিনা বানু ছিলেন তৎকালীন নামকরা একজন পিরানী । ফলে তার সঙ্গীতচর্চার গোড়াপত্তনই হয় পারিবারিক ঐতিহ্যে ।
তার অধিকাংশ গান ছিল সুফিবাদ ও মরমিবাদ ভিত্তিক । তবে এসবের বাইরেও ভিন্ন ধাচের অসংখ্য গান তিনি লিখেছেন । এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাউল, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক, গণসংগীত, মালজোড়া, জারি, সারি, ভাটিয়ালি ইত্যাদি । ১৯৬৭ সালে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন বাউলসাধক শাহ আবদুল করিমকে সফরসঙ্গী করে ।  তার গানের কথা ও সুরে বিমোহিত হয়ে সঙ্গীত প্রেমীরা তাকে ‘ জ্ঞানের সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেন । একটা সময় মুখে মুখে উচ্চারিত হতো তার গান । এই বাউল সাধকের মাজার রচিত হয় তারই জন্মস্থান দূরবিন টিলায় । বছরে দুইবার এই টিলায় তার ভক্তরা আয়োজন করেন ওরস এর ।  তখন দূর দূরান্ত থেকে তার স্মরণে ছোটে আসেন হাজারো ভক্তরা ।

ইংলিশ টিলাঃ

প্রাচীন এক অনন্য নিদর্শন রয়েছে ছাতকে । শত বছরের পুরনো গল্পগাথা নিয়ে দাড়িয়ে আছে অনন্য এক টিলা যার নাম ইংলিশ টিলা । ছাতকের উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ি গ্রামের প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত জর্জ ইংলিশ এসকুয়ারের সমাধিস্থল ইংলিশ টিলা । ১৭৯৪ সালে ইংল্যান্ড থেকে জর্জ ইংলিশ এসকুয়ার নামের এক ইংরেজ বণিক  স্ব-স্ত্রীক ছাতকে আসেন ব্যবসার কাজে । তিনি এখানে কোম্পানী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চুনাপাথরের ব্যবসা শুরু করেন । যেটি ছিল ছাতকে সর্বপ্রথম চুনাপাথরের ব্যবসা । তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় ছাতকে সম্ভাবনাময় চুনাশিল্পের দ্বার উন্মোচিত হয় । জর্জ ইংলিশ ছাতকে থেকে প্রায় ৫০ বছর ব্যবসা-বানিজ্য পরিচালনা করে ১৮৫০ সালে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন । তার মৃত্যুর পর স্ত্রী হেনরী স্বামীর ব্যবসা-বানিজ্য দেখাশুনা করতে শুরউ করেন । ঐ বছরই মিসেস হেনরী স্বামীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে টিলার উপর নির্মাণ করেন একটি দর্শনীয় বিশাল স্মৃতিসৌধ । পরবর্তীতে স্মৃতিসৌধটি সাহেব মিনার নামে পরিচিতি লাভ করে এবং টিলাটির নাম হয়ে যায় ইংলিশ টিলা ।
 কয়েকবছর পর তার স্ত্রী মিসেস হেনরী  ব্যবসা-বানিজ্য গুটিয়ে নিজ দেশে চলে গেলে চলে গেলে ইংলিশ টিলা ও সাহেবের মিনার সরকারী সম্পত্তিতে পরিণত হয় । প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার ও বর্গাকারে সাড়ে চারফুট চওড়া এ মিনারটির গায়ে মার্বেল পাথরে খোদাই করে ইংরেজীতে লিখা আছে ‘ইংলিশ দম্পতির’ ইতিহাস ।

ছাতক বাজার থেকে দশ মিনিট হেঁটে বাগবাড়ীতে এই টিলার অবস্থান । রিক্সা ভাড়া নিবে ১০-১৫ টাকা ।  

লাল পাহাড়ঃ

ছাতকের লাল পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর একটি পাহাড় । এর লালচে রঙ নজর কাড়ে যেকোন পর্যটকের ।  এ পাহাড়টি শুধু এর লাল রঙ এর জন্যই বিখ্যাত নয়, এই পাহাড়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছিল জনপ্রিয়  বাংলা সিনেমা “ছোঁয়ে দিলে মন” এর কাহিনি । ছবিটির অসংখ্য দৃশ্য এই পাহাড়ে নেয়া ।  পাহাড়টি এ অঞ্চলের অঘোষিত প্রাকৃতিক ওয়াচ টাওয়ার । এখানের উপর থেকে চারপাশে তাকালে শুধু সবুজ আর সবুজ প্রত্যক্ষ হয় । 

ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি পেরিয়ে একটু সামনে হাটলেই পাওয়া যাবে লাল পাহাড় ।  চাইলে অটোরিকশা করেও যাওয়া যাবে । ভাড়া জনপ্রতি ৫-১০ টাকা । 

রোপওয়েঃ

এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম রোপওয়ে ছাতকে অবস্থিত । সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে সিলেটের ভোলাগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এই রোপওয়েটির দৈর্ঘ্য ১৯ কিলোমিটার ।  

সারা দেশের রেল লাইনে পাথরের চাহিদা মিটানোর লক্ষ্যে ও ভোলাগঞ্জ থেকে সংগৃহিত পাথর সারা দেশে সরবরাহের জন্য ১৯৬৫ সালে ছাতক-ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয় । ১১৯টি ট্র্যাসেলের ওপর ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রোপওয়ে লাইন স্থাপিত হলে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৩ সালে । এ রোপওয়ে লাইন দিয়ে ভোলাগঞ্জ থেকে উন্নতমানের বড় বড় পাথর এনে প্রথমে রাখা হয় ছাতকে । পরে ছাতক থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে ।
পাথর পরিবহনে ৪২৫টি বাকেটের মধ্যে বর্তমানে ৩৫টি বাকেট সচল রয়েছে । অকেজো অবস্থায় ১২০টি বাকেট গুদামে রক্ষিত রয়েছে । লাল পাহাড় থেকে অনতিদূরে এই রোপওয়ের অবস্থান ।


ছাতক গ্যাসক্ষেত্রঃ 

ছাতক গ্যাসক্ষেত্র ১৯৫৯ সালে আবিস্কৃত হয়  । এই কূপটি ছাতক-১ হিসেবে পরিচিত । এই গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৭ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হয় । এর পরে কূপে অত্যাধিক পানি আসার কারণে উৎপাদন স্থগিত ঘোষণা করা হয় । এই গ্যাসক্ষেত্রটিতে মোট মজুদ প্রায় ৩৩২ বিলিয়ন ঘনফুট, যার অধিকাংশই উৎপাদন করা হয়নি । 

ছাতক উপজেলা থেকে একেবারে নিকটকেই এর অবস্থান । 

বাঁশতলাঃ

ছাতক উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া গ্রাম পেরুলেই আকাশের সঙ্গে পাহাড়ের মিলনমেলা চোখে পড়ে । এখানেই রয়েছে ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিসৌধ । ভারত থেকে নেমে আসা চিলাই নদীর ওপর নির্মিত মনোরম সুইস গেট, তিনদিকে মেঘালয় পাহাড়ে ঘেরা বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ । পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি স্রোতস্বিনী নদীর কলতান আর পাখির কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা ।

টিলার ওপর চোখ জুড়ানো স্মৃতিসৌধ নজরকাড়ে সবার । শুধু স্মৃতিসৌধ নয়, এখানে আছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধার সমাধি । তিন দিকে মেঘালয় পর্বতমালা ঘিরে থাকা বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ এক কথায় অসাধারণ ।
পাহাড়বেষ্টিত বাঁশতলা এলাকায় এবং তার আশপাশে মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শহীদ হন, তাঁদের সমাহিত করা হয় বাঁশতলার এই নির্জনে। সেই স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য নির্মাণ করা হয় বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ ।
 ছাতক উপজেলা থেকে খেয়ায় সুরমা নদী পার হয়ে  সিএনজি বাংলাবাজার হয়ে সরাসরি চলে যেতে পারবেন বাশতলা ।


শিখা সতেরঃ 

ছাতক শহর থেকে ৫ কিঃমিঃ দূরে সিলেট-ছাতক হাইওয়ে রোড এবং সিলেট-ছাতক রেল পথের মাঝামাঝি অবস্থিত শিখা সতের । 

এখানে সমাহিত আছেন সতের জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মাধবপুরের লালপুল এলাকায় দেশের মুক্তিকামী ১৭ জন দামাল ছেলেকে পাকহানাদার বাহিনী জীবন্ত কবর দিয়েছিল ।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ১৮ জন উদ্যমী যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে সমবেত হয় । তারা সুনামগঞ্জের সুরমা নদী পথে ছাতকের নোয়ারাই হয়ে ভারতের চেলা এলাকায় প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । বেতুরা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় রাজাকার ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগী রাজাকাররা মুক্তি পাগল যুবকদের বোকা বানিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তোলে দেয় । ওই সময় এক যুবক পালাতে সক্ষম হলেও বাকি যুবকদের হাত-পা বেঁধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ছাতক থানায় নিয়ে যায় । সারাদিন বেঁধে রেখে রাতভর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে পরের দিন সন্ধ্যায় লালপুল এলকায় তাদের জীবন্ত কবর দেয়া হয় ।
১৯৭২ সালের ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী সরকারি অর্থায়নে শিখা সতেরর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন । সেই থেকে শিখা সতেরো সগৌরবে দাড়িয়ে আছে বাংগালীদের বীরগাথা বুকে নিয়ে । 

কিভাবে যাবেন ছাতকঃ

ঢাকা সায়েদবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি ছাতক যাওয়ার বাস রয়েছে । তবে কেউ চাইলে সিলেট হয়েও ছাতকে আসতে পারবেন । সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে বাস ও সিএনজি সরাসরি ছাতক যায় । ভাস ভাড়া জনপ্রতি ৬০-৭০ টাকা । সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ৮০-১০০ টাকা । 

কোথায় থাকবেনঃ

ছাতকে মুটামুটি মানের রেস্ট হাউস ও হোটেল রয়েছে । রইছ বোর্ডিং, রয়েল পার্ক হোটেল ও মাহবুব বোর্ডিং এ ৩০০-১০০০ টাকার ভিতরে থাকতে পারবেন । তবে আধুনিক সুযোগ সুবিধা পেতে সিলেট ফিরে এসে রাত্রিযাপন করাটাই আরামদায়ক হবে । 

সিলেটের যেকোন হোটেল মুহুর্তেই বুকিং দিতে ভিজিট করুন www.amarroom.com

amarroom