Travel

দিনাজপুর, উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় জেলা !

dinajpur1

করতোয়া ও ইছামতি নদী তীরে গড়ে ওঠা দিনাজপুর বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা । দিনাজপুরের ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন ও সমৃদ্ধ । ১৩ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় জেলা । সাহিত্য, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যে ভরপুর এই জেলাটিতে রয়েছে অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন দর্শনীয় স্থান ।

আত্রাই, কাকড়া, ঢেপা, দীপা নদীসহ জেলাটিতে রয়েছে ২৩টিরও বেশি নদী । 

রংপুর বিভাগের অধীনে থাকা দিনাজপুর জেলা লিচু ও ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত । এছাড়া এখানে গম ও ভুট্টাসহ নানা ধরনের ফসলাদি চাষ করা হয় । এখানকার শতকরা প্রায় ৬০ ভাগেরও বেশি মানুষ কৃষির সাথে জড়িত । ইতিহাস ঐতিহ্যের বর্ণালী এই জেলায় রয়েছে নজরকাড়া অসংখ্য স্থান । যেসব স্থানগুলোকে এক পলক দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে ছোটে যান পর্যটকেরা । এখানে প্রাকৃতিক নান্দনিক স্থানের পাশাপাশি রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক বহু নিদর্শন । 

নামকরণঃ

দিনাজপুর জেলার ইতিহাস বেশ

সুপ্রাচীন । জেলাটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৭৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । জনশ্রুতি মতে, জনৈক দিনাজ অথবা দিনরাজ নামক রাজা দিনাজপুর রাজপরিবার প্রতিষ্ঠা করেন । রাজার নামানুসারেই এখানকার মৌজার নাম হয় “দিনাজপুর” । পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার মৌজা থেকে নতুন জেলা গঠন করে এবং সে মৌজার নামানুসারে ও রাজার সম্মানে জেলার নামকরণ করে “দিনাজপুর” জেলা ।

ইতিহাসঃ

দিনাজপুর প্রাচীন আমলে পুণ্ড্রবর্ধনের অংশ ছিল । লক্ষ্ণৌতির রাজধানী দেবকোটের অবস্থান ছিল দিনাজপুর হতে ১১ মাইল দক্ষিণ দিকে ।
দেওয়ানি গ্রহণের ফলে ১৭৬৫ সাল দিনাজপুর জেলা ব্রিটিশ শাসকদের অধিভুক্ত হয় । ১৭৭২ সালে এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা বৃদ্ধি পেলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একজন ইংরেজ কালেক্টর নিয়োগ দেয় । তারপর ১৭৮৬ সালে লক্ষ্ণৌতি, পানজারা, বাজিন্নাতাবাদ, তেজপুর, ঘোড়াঘাট, বারবকাবাদ ও বাজুহা, এই ছয়টি এলাকা নিয়ে দিনাজপুর (তখনকার ঘোড়াঘাট) জেলা গঠন করা হয় ।
১৮০০ সালের দিকে জেলাটির একটি বিশাল অংশ রাজশাহী, রংপুর ও পূর্ণিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয় । ১৮৩৩ সালে আবার বেশ কিছু এলাকা বগুড়া ও মালদার আওতায় নিয়ে যাওয়া হয় । ১৮৭০ সালে আরো কিছু এলাকা মালদা ও বগুড়া জেলার অধীনে স্থানান্তর করা হয় । ১৮৫৬ সালে দিনাজপুরকে পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয় । বাংলার প্রথম দিককার ৪০টি পৌরসভার মধ্যে দিনাজপুর পৌরসভা অন্যতম ।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময়ে দিনাজপুরের একটি বড় অংশ চলে যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আওতায় । যেটার নাম রাখা হয় পশ্চিম দিনাজপুর । বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৮৪ সালে দিনাজপুরের দুটি মহকুমা ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়কে আলাদা জেলায় ভাগ করে দেয়া হয় । 

দর্শনীয় স্থানসমূহঃ

দিনাজপুর জেলায় রয়েছে ভ্রমণপিপাসুদের তৃষ্ণা মেটানোর অসংখ্য উপকরণ । প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি ও জমিদার বাড়িসহ প্রত্নতাত্ত্বিক বহু নিদর্শন । 

১৮ ও ১৯ শতকে নির্মিত বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে দিনাজপুরে । তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – উইলিয়াম কেরী নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল, দিনাজপুর জিলা স্কুল, দিনাজপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও জুবিলি হাইস্কুল । 

রামসাগর দিঘীঃ

রামসাগর দিঘী বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি স্থান । দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ৮ কিঃমিঃ সোজা দক্ষিনে তেজপুর গ্রামে অবস্থিত রামসাগর দিঘী । এটির পাড় বাদে শুধু জলভাগের আয়তন ৬০ একর । তবে চারিদিকের টিলাকৃতির পাড়সহ এটির আয়তন প্রায় ১৩০ একর । দিঘীর সব থেকে আকর্ষণীয় জায়গা হচ্ছে ১৫০ ফুট দীর্ঘ বেলেপাথরে বাধাই করা ঘাট । রামসাগরের গভীরতা গড়ে প্রায় ৩০ ফুট । এই দীঘির জল কোন মৌসুমেই শুকায় না । 

রাজা রামনাথ ১৭৫০-১৭৫৫ খ্রীষ্টাব্দে খরার কারণে দুর্ভিক্ষে পীড়িত লোকদের কর্মসংস্থান ও পানির প্রয়োজন মেটানোর জন্য দীঘিটি খনন করেন । রাজা রামনাথের নামানুসারে দিঘীর নাম রামসাগর দিঘী বলে পরিচিত লাভ করে । 

দিঘীর পাড় বর্তমানে অসংখ্য গাছপালায় সুসজ্জিত করা । সুবিশাল জলরাশির সাথে সবুজ বৃক্ষরাজি এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করে । পর্যটকরা ইতিহাসের স্বাক্ষী এই দিঘীর পাড়ে বসে মনকে রাঙান অসীম আনন্দে ।  

ঐতিহাসিক রামসাগর দীঘিটি বর্তমানে পর্যটন বিভাগ তত্ত্বাবধান করে । তারা রামসাগর দীঘির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করে যাচ্ছেন অক্লান্তভাবে । পর্যটকদের সুবিধার জন্য নির্মান করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত একটি মনোরম রেস্ট হাউজ ।

রামসাগর দিঘীকে কেন্দ্র করে পর্যটন বিভাগ সেখানে গড়ে তোলেছে জাতীয় উদ্যান ।  এছাড়া পর্যটকদের মনোরঞ্জন করতে গড়ে  তোলা হয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা । যেখানে  বানর, হরিণ সহ বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে । শিশুদের বিনোদনের জন্য এখানে তৈরি করা হয়েছে একটি আকর্ষনীয় শিশুপার্ক । রয়েছে বনভোজনের ব্যবস্থা । বনভোজনের নির্বিঘ্নতা নিশ্চিত করতে রামসাগরে রয়েছে ৭ টি বনভোজন কর্নার । এছাড়া ২০১০ সালের রামসাগরে  ব্যক্তিগত উদ্যোগে রামসাগর গ্রন্থাগার নামে একটি লাইব্রেরি তৈরি করা হয়েছে । চাইলেই যে কেউ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এখানকার যেকোন বই পড়তে পারবেন । 

স্বপ্নপুরি পার্কঃ 

স্বপ্নের মতো করে সাজিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে স্বপনপুরি বিনোদন পার্ক । এটি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে অবস্থিত । প্রায় ৪০০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা পার্কটিতে বেড়াতে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর ঢল নামে । দিনাজপুর শহর থেকে ৫২ কিলোমিটার দূরের এই পার্কটিতে রয়েছে চিত্তবিনোদনের বিভিন্ন উপাদান ।
এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে নান্দনিক কৃত্রিম লেক ও বিশাল উদ্যান । উদ্যানে রয়েছে বিচিত্র গাছগাছালি এবং দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান । এর অভ্যন্তরে রয়েছে ছোট বড় একাধিক পাহাড় । 

এছাড়া এখানে রয়েছে শিশুদের জন্য আলাদা শিশুপার্ক ও মিনি চিড়িয়াখানা । রয়েছে শালবন, ঘোড়ার রথ, হংসরাজ সাম্পান, খেলামঞ্চ, বিভিন্ন ভাস্কর্যসহ অসংখ্য নজরকাড়া চিত্তাকর্ষক উপাদান ।
বনভোজন করার জন্য স্বপ্নপুরী একটি আদর্শ জায়গা । এখানে বনভোজনের জন্য রয়েছে আলাদা পিকনিক স্পট । 

রাত্রি যাপনের জন্যেও বিশাল এই পার্কের ভিতরে রয়েছে সুব্যবস্থা । এখানে থাকার জন্য রয়েছে ৫টি নান্দনিক কটেজ । এগুলোর নামও বেশ সুন্দর । সন্ধ্যাতারা, নীলপরী, নিশিপদ্ম, রজনীগন্ধা মেঠোঘর এবং ভিআইপি কুঞ্জ । দিনাজপুর শহর থেকে এখানে যেতে হলে প্রথমে বাসে করে যেতে হবে ফুলবাড়ি । ফুলবাড়ি থেকে সিএনজি যোগে যাওয়া যাবে স্বপ্নপুরি পার্কে । 

নয়াবাদ মসজিদঃ

ঢেপা নদীর তীরে অবস্থিত নয়াবাদ মসজিদটি কালের একটি ঐতিহাসিক মসজিদ । ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি দিনাজপুর শহর হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কাহারোল উপজেলার নয়াবাদ গ্রামে অবস্থিত । ১৭৯৩ সালে নির্মিত এই মসজিদটি ১.১৫ বিঘা জমির উপর তৈরি করা হয়েছে । 

মসজিদটি সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের রাজত্ব কালে তৈরি করা হয়েছিল । তখন এখানকার জমিদার ছিলেন দিনাজপুর রাজ পরিবারের সর্বশেষ বংশধর রাজা বৈদ্যনাথ । ইতিহাসবিদদের মতে, কান্তজির মন্দির তৈরির সময় বিভিন্ন জায়গা হতে আগত মুসলমান স্থপতি ও কর্মীরা ধর্মীয় উপাসনার জন্য এই মসজিদটি নির্মান করেন । তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের চার কোনে চারটি অষ্টভুজ মিনার রয়েছে । উত্তর ও দক্ষিণের দেয়ালে রয়েছে একটি করে জানালা । পশ্চিম পাশের দেয়ালে মোট তিনটি মিম্বর রয়েছে যেগুলি মসজিদের প্রবেশ দরজা বরাবর তৈরি করা । মসজিদটি তৈরির সময় যে সকল পোড়ামাটির কারুকাজ ছিল তার অধিকাশংই নষ্ট হয়ে গেছে । অসংখ্য টেরাকোটার মধ্যে বর্তমানে মাত্র শ’খানেক টেরাকোটা বিদ্যমান । মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি কবর ।  জনশ্রুতি আছে, মসজিদ নির্মানকালে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হলে তাকে সেখানেই দাফন করা হয় । 

দিনাজপুর রাজবাড়িঃ

দিনাজপুর রাজবাড়ি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন একটি স্থাপনা । দিনাজপুর জেলার রাজারামপুর গ্রামের সন্নিকটে এই রাজবাড়িটি অবস্থিত । স্থানটি “রাজ বাটিকা” নামেও পরিচিত ।
দিনাজপুর রাজবাড়ি স্থাপন করেন দিনাজপুরের স্থপতি রাজা দিনাজ ।  তবে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন পঞ্চদশ শতকের প্রথমার্ধে ইলিয়াস শাহীর শাসনামলে রাজা গণেশ এই বাড়িটি নির্মান করেন । 

দিনাজপুর শহর থেকে সিএনজি যোগে যাওয়া যাবে দিনাজপুর রাজবাড়ী । 

ঘুঘুডাঙা জমিদার বাড়িঃ 

ঘুঘুডাঙ্গা জমিদার বাড়ি জমিদার ফুল মোহাম্মদ চৌধুরী নির্মিত একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি ।
পূর্নভবা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামে এ জমিদার বাড়ির অবস্থান । ঘুঘুডাঙা  দিনাজপুর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার  দক্ষিণে কোতয়ালী থানার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে অবস্থিত । 

এ জমিদার বাড়িতে উল্লেখযোগ্য যেসব জিনিসপত্র ছিল তার মধ্যে রয়েছে সোনার চেয়ার, ১০১ ভরি ওজনের সোনার কৃত্রিম কইমাছ, রূপার বাটযুক্ত সুদর্শন ছাতা, রূপার বাট নির্মিত একটি বিরাট হাত পাখা, রৌপ্য নির্মিত ৪টি লাঠি, এছাড়া বড় বড় ভোজ সভার রান্নার জন্য ১৩-১৪টি বিরাট তামার ডেকচি । তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তি বাহিনীকে সাহায্য করার অপরাধে পাকিস্তানি বাহিনী ঘুঘুডাঙা জমিদার বাড়িটি ধ্বংস করে দেয় ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে । 

জাদুঘরঃ

দিনাজপুর জাদুঘর বাংলাদেশের প্রত্নতাত্বিক সম্পদের এক সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা । এটি
দিনাজপুর শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় অবস্থিত । বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাচীন নিদর্শনের সংগ্রহশালাটি দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ ।
এই জাদুঘর নির্মানের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া ।
সীতাকোট বিহার আবিষ্কারের পর পুরো উত্তরবঙ্গ চষে বেড়িয়ে যেসকল প্রত্নসম্পদ সংগ্রহ করেছিলেন তা দিয়ে শুরু করলেন একটি জাদুঘর নির্মানের প্রক্রিয়া । অবশেষে ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে স্থানীয় কয়েকজন সম্মানিত ব্যাক্তিদের সহায়তায় তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন দিনাজপুর জাদুঘর । নিজের সংগৃহীত দুষ্প্রাপ্য মূর্তি, মুদ্রা, শিলালিপিসহ সব প্রত্নসামগ্রী জাদুঘরে দান করে উজ্জ্বল একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন । তার দেখাদেখি অনেকেই নিজেদের সংগ্রহে থাকা প্রত্নসম্পদ দান করে জাদুঘরটিকে সমৃদ্ধ করেন । ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবে জাদুঘরটিতে প্রায় ৮০০ প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ছিলো ।

বর্তমানে বেশ সমৃদ্ধ এই জাদুঘরটি দ্বিতল ভবনে উন্নিত করা হয়েছে ।  

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিঃ
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছাড়াও দিনাজপুরে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের ছড়াছড়ি । বাংলাদেশে আবিষ্কৃত পাঁচটি কয়লাখনির মধ্যে তিনটিরই অবস্থান দিনাজপুরে । তবে বর্তমানে শুধু বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে । প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হয় এই খনি থেকে । বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় । সাম্প্রতিক কালে দিনাজপুরের হাকিমপুরে বাংলাদেশের একমাত্র লৌহ খনি আবিষ্কৃত হয়েছে । খনিটিতে লোহার পাশাপাশি ক্রোমিয়াম ও নিকেলেরও উপস্থিতি রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞ দল । এমনকি খনিটিতে স্বর্ণও পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন তারা । 

কিভাবে যাবেনঃ 

ঢাকা থেকে সড়কপথ কিংবা রেলপথে করে দিনাজপুর যাওয়া যায় । ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে দিনাজপুরগামী বাসগুলি ছেড়ে যায় । বাস সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে নাবিল পরিবহন, এস আর ট্রাভেলস, এস এ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ,কেয়া পরিবহন ।
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস এবং পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ।

সিংড়া জাতীয় উদ্যানঃ

সিংড়া জাতীয় উদ্যান দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল । স্থানীয়ভাবে এটি সিংড়া শালবন নামে পরিচিত । দিনাজপুর জেলা শহর থেকে সড়ক পথে ৪০ কিঃমিঃ উত্তরে এবং বীরগঞ্জ উপজেলা থেকে ১০ কিঃমিঃ দূরে ভোগনগর ইউনিয়নে এর অবস্থান । এই বনভূমির মোট আয়তন ৩৫৫ হেক্টর এবং এর মধ্যে সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যানের পরিমাণ ৩০৫.৬৯ হেক্টর । ডালাগ্রাম, চাউলিয়া, সিংড়া ও নর্তনদী এ ৪টি মৌজায় সিংড়া জাতীয় উদ্যান বিস্তৃত । সিংড়া জাতীয় উদ্যানের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে নর্ত নদী । 

সিংড়া জাতীয় উদ্যানে মূলত পত্রঝরা শালবৃক্ষের প্রাধান্য দেখা যায় । তবে শাল ছাড়াও এখানে রয়েছে জারুল, তরুল, শিলকড়ই, শিমুল, মিনজিরি, সেগুন, গামার, আকাশমনি, ঘোড়ানিম, সোনালু, গুটিজাম, হরতকি, বয়রা, আমলকি এবং বিভিন্ন ধরনের নাম না জানা উদ্ভিদ ও লতা-গুল্ম ।

এক সময়ে এই বনে বাঘ, নীল গাইসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য জীবজন্তুর আবাস ছিল । তবে বনভূমি ধ্বংস ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে এ বনভূমি থেকে জীবজন্তু হারিয়ে যেতে থাকে । বর্তমানে এই বনে খরগোশ, শেয়াল, সাপ ও বেজি সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও পতঙ্গের দেখা পাওয়া যায় ।

দেশী শুমচা, হাঁড়িচাচা, ব্রঞ্জ ফিঙ্গে, নীল গলা বসন্ত বৌরি, বড় তিত, খুরুলে পেঁচা, মেঘ হও মাছরাঙা, ইউরেশীও-কণ্ঠী ঘুঘু , তিলা ঘুঘু, বাংলা কাঠ-ঠোকরা, বেনে বউ, বুলবুলি, টুনটুনি, লম্বা লেজ রাতচরা ইত্যাদি পাখি বর্তমানে দেখা যায় । 

কিভাবে যাবেনঃ 

ঢাকা থেকে সড়কপথ কিংবা রেলপথে করে দিনাজপুর যাওয়া যায় । ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে দিনাজপুরগামী বাসগুলি ছেড়ে যায় । বাস সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে নাবিল পরিবহন, এস আর ট্রাভেলস, এস এ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ,কেয়া পরিবহন ।
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস এবং পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ।

কোথায় থাকবেনঃ  দিনাজপুর শহরে বেশ কিছু ভাল মানের হোটেলে রয়েছে । পর্যটন মোটেল, হোটেল ডায়মন্ড, হোটেল রেহানা, হোটেল নবীন, ইত্যাদি হোটেলগুলোতে থাকার জন্য ভাল সুযোগ সুবিধা রয়েছে । ভ্রমণে ঝামেলা এড়াতে আগে থেকেই হোটেল রুম বুকিং দিয়ে রাখুন । খুব সহজেই www.amarroom.com এর মাধ্যমে আপনার পছন্দ মতো যেকোন হোটেল বুকিং দিতে পারবেন । 

amarroom