Travel

বাংলার লুকায়িত রূপরাজ্য নিঝুম দ্বীপ !

Print

চারিদিকে সুনসান নিরবতা । নেই কোন হইচই, কোলাহল । শুধু আছে ঢেউয়ের মন্ত্রমুগ্ধ কলতান ।  দৃষ্টির শেষ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত জলরাশি । পায়ের নিচে চিকচিক বালি । কল্পনা করুন বালির উপর দাড়িয়ে প্রকৃতির সেই অপূর্ব  রুপ অবলোকন করছেন আপনি । অসাধারণ সে মুহুর্ত, অসাধারণ সে অনুভুতি ।  

এরকম নিস্তব্ধতাময় অলৌকিক মুহুর্ত উপভোগ করতে হলে আপনাকে যেতে হবে বাংলার লুকায়িত রূপরাজ্য নিঝুম দ্বীপে। নিঝুম দ্বীপের নিস্তব্ধতা ভ্রমণপিপাসু মানুষকে পলকেই করে দেয় প্রকৃতির মত শান্ত। নির্মল পরিবেশে মুহুর্তেই যেন পাওয়া যায় শীতল এক প্রশান্তি। দ্বীপের সৈকতে দাড়িয়ে বিস্তৃত জলরাশির বিশালতা দেখতে দেখতে কঠিন হৃদয়টাও হয়ে যাবে কাননের মতো কোমল।

শুধুই সৈকত বা জলরাশি নয়, এই দ্বীপে রয়েছে অসংখ্য চিত্রা হরিণের বাস। চোখের সামনে হরিণের বিচরণ দেখতে দেখতে কতটা সময় অতীত হয়ে যাবে টেরও পাবেন না। বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য পাখির সমারোহে ভরে উঠবে আপনার মন। সে সাথে সৈকতের পাড়ে দেখা হয়ে যেতে পারে অসংখ্য লাল কাকড়া ও কচ্চপের সাথে। লাল কাকড়ার ব্যস্ত দৌড় ও কচ্চপের ধীরগতি। দুটো আলাদা বৈশিষ্ট্যের দুটি প্রাণী আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে পুরোটা সময়। 

অবস্থান ও বৈশিষ্ট্যঃ

নিঝুম দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা ছোট্ট একটি দ্বীপ। এটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন। কামলার চর, চর ওসমান, চর মুরি ও বল্লার চর নিয়ে গঠিত এই দ্বীপটির আয়তন ১৪,০৫০ একর। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে ৯টি গুচ্ছ গ্রাম। এই গুচ্ছ গ্রাম ছাড়াও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘর। 

নিঝুম দ্বীপের অবস্থান হাতিয়া উপজেলা হতে দুই কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে। বাংলাদেশ সরকার ২০০১ সালে সম্পূর্ণ দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। দ্বীপের ভিতরে বনবিভাগের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বন। এসব বনে রয়েছে কেওড়া ও বাইন গাছসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছালি। 

 বনবিভাগের কার্যালয়ের ভিতরে রয়েছে বেশ কিছু চিত্রা হরিণ। রয়েছে একটি বিশাল ওয়াচ টাওয়ার। ওয়াচ টাওয়ার থেকে দেখতে পাওয়া যাবে আশপাশের প্রকৃতির রূপ-সুধা। বনবিভাগের কার্যালয়ের পাশেই রয়েছে আরেকটি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ও ট্র‍্যাকিং ট্রেইল। এই বনেও অন্যান্য বনের মতো রয়েছে কেওড়া গাছ ও বাইন গাছ। এছাড়াও দ্বীপজুড়ে রয়েছে ৪৩ ধরনের লতাগুল্ম ও ২৩ ধরনের অন্যান্য গাছ। এই দ্বীপের তিন চতুর্থাংশই ঘন বন দ্বারা আচ্ছাদিত। সুন্দরবনের পরই বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত এই নিঝুম দ্বীপ।

এসব বনে পরিক্ষামূলকভাবে ১৯৭৮ সালে ৪ জোড়া চিত্রা হরিণ ছাড়া হয়। বর্তমানে এ দ্বীপে চিত্রা হরিণের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। দ্বীপের একর প্রতি চিত্রা হরিণের ঘনত্ব সুন্দরবনের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। বাঘের মতো কোনো মাংসাশী প্রাণী না থাকায় দ্রুতগতিতে হরিণের বংশবৃদ্ধি ঘটছে।

নিঝুম দ্বীপে চিত্রা হরিণ ও মহিষ ব্যতিত অন্য কোন কোন হিংস্র প্রাণী নেই। তাই ভ্রমনের জন্য দ্বীপ ও দ্বীপের বনগুলি খুবই নিরাপদ। 

দ্বীপে রয়েছে নিশি বক, দেশি কানিবক, গোবক, ধূসর বক, কাদাখোঁচা, দেশি পানকৌড়ি, বালিহাঁস, কালোহাঁস, তিলা লালপা, তিলা সবুজপাসহ  প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি। এছাড়া শীতকালে হাজার হাজার অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয় এই দ্বীপ। তখন পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে পুরো দ্বীপ। 

“মারসৃপারি” নামে একধরনের মাছ এই দ্বীপে পাওয়া যায়। এটি একটি উভচর প্রাণী। আকারে  ৬-৯ ইঞ্চি লম্বা এই মাছটি ৫ পর্যন্ত বাঁচে। 

বর্ষা মৌসুমে নিঝুম দ্বীপের জেলেরা মেঘনার মোহনা থেকে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরে। তখন ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি মাছ বিক্রেতারা নিঝুম দ্বীপে মাছ কিনতে আসে। এছাড়া শীত মৌসুমে নিঝুম দ্বীপে “চেঁউয়া” মাছ নামক এক ধরনের মাছ পাওয়া যায়। এই মাছ থেকে জেলেরা শুঁটকি তৈরি করেন।

এখানকার বাসিন্দারা খুবই সহজ সরল ও ধর্ম ভীরু। পর্যটকদের খুবই আন্তরিকভাবে সবাই সাহায্য করেন। দ্বীপ ঘুরে দেখানোর জন্য গাইড হিসেবে ছোট ছোট বাচ্চারা সাহায্য করে। দিন শেষে ৫০-১০০ টাকা দিলেই তারা খুশি হয়ে যায়। 

নিঝুম দ্বীপে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি বাজার রয়েছে। তবে এখানকার সব থেকে বড় যে বাজার সেটা হচ্ছে নামার বাজার। এই বাজারের উপরই দ্বীপের বাসিন্দারা নির্ভর করে থাকেন। প্রতিদিনের সকল খরচাপাতি সবাই এই বাজার থেকেই করেন। নামার বাজারে পর্যটকদের ক্যাম্পিং করার প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রও পাওয়া যায়।

নিঝুম দ্বীপের সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতের সমস্যা। এখানে কোন বিদ্যুত নেই। তবে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে মোবাইল চার্জ দেয়ার ব্যাবস্থা রয়েছে। 

নিঝুম দ্বীপের নামকরণ ও ইতিহাসঃ

নিঝুম দ্বীপের পুরনো নাম চর ওসমান। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত জনবসতিহীন এই দ্বীপে ওসমান নামক একজন বাথানিয়া তার মহিষের পাল নিয়ে আসেন। এরপর থেকেই এই দ্বীপের নাম হয়ে যায় “চর ওসমান”। পরবর্তীতে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম দ্বীপটির নাম পরিবর্তন করে রাখেন নিঝুম দ্বীপ। 

 তবে দ্বীপের বালুকাময় মাটির জন্য জেলেরা এটিকে ডাকে বালুর চর। দ্বীপটিতে একসময়  বালুর ঢিবি বা টিলার মতো ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাল্লারচর বলেও ডাকত। বর্তমানে নিঝুম দ্বীপ নামকরণ করা হলেও স্থানীয়রা এখনো এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাল্লারচর বলেই ডাকে। 

একসময় নিঝুম দ্বীপকে ইছামতী দ্বীপও ডাকা হতো। কারণ এই দ্বীপের আশপাশে অনেক ইছা মাছ (চিংড়ি মাছ) পাওয়া যেত। 

দর্শনীয় স্থানঃ

যারা ট্র‍্যাকিং করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য নিঝুম দ্বীপ বিশাল সুযোগ নিয়ে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। চোয়াখালি বন ট্র‍্যাকারদের জন্য হতে পারে আদর্শ জায়গা। ট্র‍্যাকিং করতে করতে চলে যেতে পারেন বনের একদম গহীনে। পথিমধ্যে দেখা হয়ে যেতে পারে হরিণের বিশাল পালের সাথে। তবে ট্র‍্যাকিং করার সময় শ্বাসমূল থেকে সাবধান থাকবেন। এবং অবশ্যই সাথে কোন ছোট বাচ্চাকে গাইড হিসেবে রাখবেন। কারণ বনের ভিতর হারিয়ে গেলে পথ চেনা দুঃসাধ্য। আরো কি কি দেখবেন নিঝুম দ্বীপে? 

১. কমলার দ্বীপ:

নিঝুম দ্বীপের পাশেই অবস্থিত কমলার দ্বীপ। ছোট্ট এই দ্বীপটিতে ট্রলার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। পুরো দ্বীপটা হেঁটে হেঁটে ঘুরে আসা যায। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পরে জাহাজ থেকে এই দ্বীপে কয়েক বাক্স কমলা ভেসে আসে। কমলাগুলো পড়ে থাকতে দেখে এর নামকরন করা হয় কমলার দ্বীপ।কমলার খালে অনেক ইলিশ মাছ পাওয়া যায়।

২. চৌধুরী খাল ও কবিরাজের চর

নিঝুম দ্বীপের আসল সৌন্দর্য্য এই কবিরাজের চর। চৌধুরী খাল হয়ে কবিরাজের চর যেতে যেতে দ্বীপের প্রকৃত সৌন্দর্য্য অবলোকন করা যায়। কবিরাজের চরেই সব থেকে বেশি হরিণের আবাস। তাই হরিণ দেখতে হলে কবিরাজের চরে আসাই বাঞ্চনীয়। মূল দ্বীপ থেকে এই চরে ট্রলারে করে আসা যায়। যাওয়া আসা মিলিয়ে ১০০০-১৫০০ টাকা দিতে হবে মাঝিকে। ট্রলারে ১০জন যাত্রী উঠা যাবে।

৩. চোয়াখালি সমুদ্র সৈকতঃ

চোয়াখালি সমুদ্র সৈকতও ঘুরে আসার তালিকায় রাখতে পারেন । এখানেও ভোরবেলা অসংখ্য মায়া হরিণের দেখা পাওয়া যায় । সাথে আছে হরেক রকম পাখির কলকাকলি । শীতকালে চোয়াখালি সমুদ্র সৈকত হয়ে যায় অতিথি পাখির স্বর্গরাজ্য । অসংখ্য পরিযায়ী পাখি ঝাঁক বেঁধে এই সৈকতে শীত পোহাতে আসে । তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজসরালী, গাডোয়াল, গরাদমাথা রাজহাঁস, ধলাবেলে হাঁস, ইউরেসীয় সিথীহাঁস । সমুদ্রপাড়ে বালিতে পা ভেজাতে ভেজাতে হাজারো পাখির কলরবের সাথে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে মনে হবে স্বর্গের কোন ভূবনে চলে এসেছেন । এখানে যেতে হলে আগের দিন বাইক চালককে বলে রাখতে হবে যেন ভোরেই নিয়ে আসে চোয়াখালিতে । ভোরে আসলেই হরিণের দেখা পাওয়া যাবে সহজে ।

৪. নামার বাজার সমুদ্র সৈকতঃ

নামা বাজার থেকে সব থেকে কাছের সমুদ্র সৈকত হচ্ছে নামার বাজার সমুদ্র সৈকত । নামার বাজার থেকে মাত্র ১০ মিনিট হাটলেই পৌছে যাবেন নামার বাজার সমুদ্র সৈকতে । এখান থেকেই প্রকৃতির রূপকে আলিংগন করে নিতে পারবেন গভীর মায়ায় । এই দ্বীপে পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকে বলে সৈকতে হাটতে হাটতে নিজেকে মনে হবে এই প্রকৃতির রাজ্যের রাজা । এখান থেকে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি শিহরণ জাগাবে মনে । ক্লান্ত দেহ তৃপ্তি পাবে কোলাহল থেকে সহস্র বর্ষ দূরের এই সমুদ্র সৈকত দেখে ।

৫. দমারচর কুমারী সৈকতঃ

খুব সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের কোলে দমার চরে তৈরি হয়েছে এই সৈকতটি । এটি ভার্জিন সী বীচ বা কুমারী সৈকত বলে পরিচিতি লাভ করেছে । দমারচর কুমারী সৈকতের সৌন্দর্য্য অন্য কোন সৈকত থেকে কোন অংশেই কম নয় । বরং অনেকের কাছে এতি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের চেয়েও আকর্ষণীয় মনে হয় । 

অনিন্দসুন্দর কুমারি সমুদ্র সৈকতটি বঙ্গোপসারের কোল ঘেঁষা নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন দমার চরের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত । নিঝুম দ্বীপের সহজ সরল স্থানীয়  লোকেরা এই নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতকে বলে ‘দেইলা’ বা বালুর স্তুপ । তারা জানেই না যে, আসলে এটা একটা সমুদ্র সৈকত । এখানে আসতে হলে ট্রলার রিজার্ভ করে আসতে হবে । ভাড়া আলোচনা করে নিতে হবে ।

অনিন্দসুন্দর কুমারি সমুদ্র সৈকতটি বঙ্গোপসারের কোল ঘেঁষা নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন দমার চরের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত । নিঝুম দ্বীপের সহজ সরল স্থানীয়  লোকেরা এই নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতকে বলে ‘দেইলা’ বা বালুর স্তুপ । তারা জানেই না যে, আসলে এটা একটা সমুদ্র সৈকত।

ক্যাম্পিংঃ 

নিঝুম দ্বীপের সব থেকে বড় আকর্ষণ হচ্ছে এখানকার ক্যাম্পিং ব্যবস্থা। বনবিভাগের পরিচালনায় এখানে রয়েছে ক্যাম্পিং এর সুব্যবস্থা। মাত্র ৫০০ টাকায় একটি তাবুতে দুইজন করে থাকতে পারবেন। নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই। নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে বনবিভাগের নিরাপত্তা প্রহরী। রয়েছে রাতে ক্যাম্পফায়ার ও বার-বি-কিউ এর সুব্যস্থা। সামুদ্রিক মাছ কিংবা মোরগ দিয়ে সেরে নিতে পারেন সমুদ্রতটে বার বি কিউ এডভেঞ্চার। 

খাবারঃ 

নিঝুম দ্বীপে খাবারের জন্য বড় কোন রেস্টুরেন্ট নেই। ছোট ছোট কয়েকটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেখানে দুপুর ও রাতের খাবার সেরে নেয়া যাবে। ছোট রেস্টুরেন্ট হলেও এখানে বিদ্যুৎ না থাকার বদৌলতে সব খাবারই টাটকা পাওয়া যায়। এখানকার রান্নার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সবাই কড়িকাঠ দিয়ে রান্না করে। আশিক রেস্টুরেন্ট এখানকার মোটামুটি পরিচিত রেস্টুরেন্ট। অন্যান্য রেস্টুরেন্ট থেকে এটির সুনাম বেশ ভাল। এখানকার খাবারের তালিকায় রয়েছে কোরাল মাছ, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছসহ বেশ কিছু সামুদ্রিক মাছ। এগুলোর দাম পড়বে ৬০-১০০ টাকার মধ্যে। 

দ্বীপে মাত্র ২৫-৩০ টাকা দরে পেয়ে যাবেন সুস্বাদু পানীয় ডাব। খেতে একদমই ভুলবেন না। আরো আছে খেজুরের রস। প্রত্যেক গ্লাস খেজুরের রস মাত্র ২০ টাকা। 

বাহনঃ

অন্যান্য দ্বীপের মতোই এখানকার প্রধান বাহন হচ্ছে মোটরসাইকেল। তবে বেশ কিছু ব্যাটারি চালিত রিক্সাও পাওয়া যায়। অবশ্য রিক্সার চাইতে মোটরসাইকেলে চলাচল করাই বেশি সুবিধাজনক। 

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে প্রথমে যেতে হবে হাতিয়া। এরপর হাতিয়া থেকে ট্রলারে করে নিঝুম দ্বীপ। 

প্রতিদিন সন্ধ্যা ৫:৩০ ও ৬ টায় এম ভি তাসরিফ ও এম ভি ফারহান হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পরদিন সকাল ৭ টার দিকে মনপুরা দ্বীপে পৌছায়। সেখানে ১ ঘন্টা যাত্রা বিরতি দিয়ে সকাল ১০টায় পৌছায় হাতিয়ার তমরুদ্দিন ঘাটে। হাতিয়ার তমরুদ্দীন ঘাটে নেমে মোটরবাইকে করে যেতে হবে মোক্তারিয়া ঘাট। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ২০০ টাকা। মোক্তারিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে যেতে হবে নিঝুম দ্বীপে। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ২৫ টাকা। 

থাকাঃ

নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি রিসোর্ট ও হোটেল। তার মধ্যে নিঝুম রিসোর্ট সবথেকে ভাল মানের রিসোর্ট এছাড়া রয়েছে হোটেল সোহেল, হোটেল শাহিন, 

হোটেল দ্বীপ সম্পদ, হোটেল শেরাটন, ও নিঝুম ড্রিমল্যান্ড রিসোর্ট। খুব সহজেই কোন ঝামেলা ছাড়া www.amarroom.com থেকে হোটেল বুকিং করতে পারবেন।

amarroom